আবারও ভারতের কাছে হেরে রানার্স আপ বাংলাদেশ

Read Time:5 Minute, 53 Second
আবারও ভারতের কাছে হেরে রানার্স আপ বাংলাদেশ

লিগ পর্বে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশ ফাইনালে এসে পথ হারাল। শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধেই টানে সমতা। দ্বিতীয়ার্ধে উদ্যমী বাংলাদেশ এগিয়েও যায়। নব্বই মিনিটের পর অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ।

দশ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হজম করে ফাইনাল হারের হতাশায় ডুবে বাংলাদেশ।

 ভুবনেশ্বরের কালিঙ্গা স্টেডিয়ামে শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৫-২ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশের যুবারা। ভুবনেশ্বরে এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। সে পথে এগিয়েও যায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আর আটকাতে পারেনি।  

দ্বিতীয় মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে ভারতকে এগিয়ে নেন গুরকিরাত সিং। হিমাংশুর দূরপাল্লার শট আসিফ ঠেকালেও গ্লাভসে আটকাতে পারেনি। বক্সের ভেতর থাকা বলের দিকে ছুটে আসেন গুরকিরাত। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভারতীয় ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন আসিফ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গোল হজম করেও দমিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। আক্রমণাত্মক খেলে ভারতকে চেপে ধরে। ২৬ মিনিটে ভাল সুযোগ তৈরি করে। ডান প্রান্ত থেকে রফিকুলের নিচু ক্রস বক্সে পিয়াস আহমেদ নোভার পায়ে যাওয়ার আগেই স্লাইডিং শটে আক্রমণ ঠেকান ভারতীয় অধিনায়ক হ্যালেন।

রক্ষণ সামলে প্রতি আক্রমণে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণে হানা দেয় ভারত। বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও তানভীর-ইমরানদের পরাস্ত করতে পারেনি। ৩৪ মিনিটে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ। মাঝ মাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু পাস বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার আটকাতে না পারলে বল পেয়ে যান গুরকিরাত। সামনে ছিল শুধুই গোলকিপার, বক্সের কোনাকুনি থেকে দূরের পোস্টে জালে জড়াতে চাইলেও পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায় বল।

আক্রমণের ধারা ধরে রেখে বিরতিতে যাওয়ার আগেই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ৪৫ মিনিটে রফিকুলের কাটব্যাকে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের গতির শটে জাল খুঁজে নেন রাজন হাওলাদার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা দারুণ করে বাংলাদেশ। ভারতের রক্ষণে প্রবল চাপ দিয়ে এগিয়ে যায় পল স্মলির দল। ৪৮ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে ইমরানের লম্বা বল গিয়ে পড়ে ভারতের বক্সে,স্বাগতিকদের এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলে পিয়াসের মাথায় লেগে চলে যায় শাহীনের পায়ে। দেখে-শুনে বাম পায়ের গতির শটে লক্ষ্যভেদ করেন ডিফেন্ডার শাহীন মিয়া।

অবশ্য লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬০ মিনিটে সমতায় ফেরে ভারত। ডি বক্সের মুখ থেকে গুরকিরাত সিংয়ের বুলেট গতির শট জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলকিপার আসিফ। ৬৭ মিনিটে গোললাইন ক্লিয়ারেন্সে করেন ডিফেন্ডার অনন্ত। হিমাংশুর শট গোলকিপার আসিফের হাতে লেগে গড়িয়ে গড়িয়ে পোস্টের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনি ক্লিয়ার করেন অনন্ত।  শেষ মিনিটে অবিশ্বাস্য সেভে বাংলাদেশকে বাঁচান গোলকিপার আসিফ। বিভিনের ক্রসে ব্রিজেশ গিরির ব্যাক হিল শট দারুণ ভাবে আটকে দেন তিনি। নির্ধারিত নব্বই মিনিট ২-২ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বাজিমাত ভারতের। হিমাংশুর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরের মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূরণ করে ব্যবধান ৪-২ করে ফেলেন গুরকিরাত সিং। এরপর আরও বিধ্বংসী ভারত। ৯৯ মিনিটে বক্সের প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে চোখ ধাঁধানো গোল করেন গুরকিরাত। এই ম্যাচে চার গোলসহ টুর্নামেন্টে মোট আট গোল ভারতীয় এই ফরোয়ার্ডের। বাকি সময়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published.