এসএটিভিতে অস্থিরতা; প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মনে পড়ে স্বর্ণালী দিনগুলো।

আবদুল্লাহ আল রায়হান, জার্মানী
আগের বছর ২৫ ডিসেম্বর পরিক্ষামূলক সম্প্রচারের পর, ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারী ঢাকঢোল পিটিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম ফুল এইচডি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এসএটিভি। নিউজকে প্রাধান্য দিতে নিয়োগ দেয়া হয় বৃটিশ সাংবাদিক স্কট রবার্ট ক্রেইগকে। দেশের টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে পরিচিত সব মুখ ছিলেন এসএটিভির শুরুর দিনগুলোতে।

বেসরকারী এই টিভির নিউজ বিভাগের আমিও একজন সদস্য ছিলাম। কাজ করেছি দীর্ঘ সময়। রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে ততই খারাপ সময় পার করছে প্রিয় প্রতিষ্ঠান এসএটিভি। বেসরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি ছাড়তে হয়েছে হেড অব নিউজ স্কট রবার্ট ক্রেইগকে। টিকতে পারেন নাই দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক নাজমুল আশরাফ। সম্মান নিয়ে এসএটিভি ছেড়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক আহসান উদ দৌলা মারুফ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সমর্থনপুষ্ট সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন সরকারের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হস্তক্ষেপের। এসএটিভিতে বিএনপি-জামায়াত এবং দিগন্ত টিভির লোক আছে বলে সালাউদ্দিনকে চাপ দেয় ডিজিএফআই। এসএটিভির স্টাফদের এক সভায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালাউদ্দিন আহমেদের প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ অবাক করেছিলো অনেককে। সরকারী এই প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার চাপে দিগন্ত টিভিতে কাজ করা কয়েকজন রিপোর্টারকে এসএটিভি অব্যহতি দিতে বাধ্য হয় বলে জেনেছি।

গেল কয়েক বছরে নিউজ বিভাগের সিনিয়র পরিবর্তন হয়েছে বারবার। অস্থিরতার মধ্যে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে রাশেদ কাঞ্চনকে নিয়োগ দেয় এসএটিভি। সরকারী অ্যাসাইনমেন্ট বাস্তবায়নে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে ভালো কোন সিনিয়র সাংবাদিক এবং রিপোর্টার যোগ দিতে চায় না এসএটিভিতে। ফলে চরম দৈন্য দশা টেলিভিশনটির নিউজ বিভাগে। প্রাণের টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মনে পড়ছে শুরুর স্বর্ণালী সেই দিনগুলো। সরকারী হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে আবারো স্বরুপে ফিরবে এসএটিভি, দূর প্রবাস থেকে চাওয়া এটুকুই।

লেখক: জার্মানী থেকে এসএটিভির সাবেক স্টাফ রিপোর্ট।

Education Template

AllEscort