ইউক্রেন উত্তেজনায় বিশ্বে বাড়ছে গমের দাম

কভিড-১৯ মহামারি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্যের দাম, নতুন করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উত্তেজনায় পণ্যবাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। টানা কয়েক দিন ধরে বাড়ছে গমের দাম। বিশ্বের মোট গম সরবরাহের ২৯ শতাংশই আসে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে গমসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই দাম বাড়ছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেখানে গমের দাম ছিল প্রতি বুশেল ৫.০৫ ডলার, এক সপ্তাহ আগে দাম বেড়ে হয়েছে ৭.৩০ ডলার। আর গত বৃহস্পতিবার দাম আরো বেড়ে হয়েছে প্রতি বুশেল ৭.৯৩ ডলার।

বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত এক সপ্তাহে গমের দাম বেড়েছে ১.৫০ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উত্তেজনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। একে অন্যকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দোষারোপ করছে। এতে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা আরো বেড়েছে। আর যুদ্ধ হলে দুই বৃহৎ দেশের গম রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। বৈশ্বিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রপটের বিশ্লেষক ওফেলিয়া কাউটস বলেন, ‘ইউক্রেন হচ্ছে গম ও ভুট্টার অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ। যদি দেশটির রপ্তানি কোনো কারণে ব্যাহত হয়, তবে বিশ্বে এসব পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাব অনুযায়ী রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারক দেশ আর ইউক্রেন চতুর্থ। দুই দেশ মিলে বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ গম সরবরাহ করে। এ ছাড়া ইউক্রেন সূর্যমুখী তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববাজারে বর্তমানে গম ও ভুট্টার দাম গত বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে খরায় গম উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরতা আরো বাড়ছে। এ বিষয়ে স্টোনএক্স ফিন্যানশিয়ালের পণ্যবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ আরলান সুডারম্যান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন রাশিয়া ও ইউক্রেন পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছেন। ’ সূত্র : এএফপি, ইমিসোরিয়ান ডটকম

Education Template

AllEscort