সার্চ কমিটি; তালিকায় বিচারপতি ভিসি সাবেক সচিব ও সামরিক কর্মকর্তা

দলীয় নেতাদের এখন থেকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বললেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন  কমিশনার-ইসি ও অন্যান্য কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সার্চ কমিটিতে দলটিতে নাম পাঠাতে প্রত্যেক প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে নাম নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। বৈঠকে উপস্থিত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যরা পৃথক পৃথক কাগজে নামের তালিকা দলীয় সভানেত্রীর কাছে জমা দেন। এসব নামের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ‘কমন এবং গ্রহণযোগ্য’ নামগুলো সার্চ কমিটিতে পাঠাবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। বৈঠকের উপস্থিত একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পৃথক পৃথক নাম দেওয়া হলেও সর্বোচ্চ ৪০-৪৫ জনের নামের তালিকা দলীয় সভানেত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই নাম থেকে ১০ জনের শর্টলিস্ট পাঠানো হবে সার্চ কমিটিতে। এ জন্য দলীয় সভানেত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ইসিতে বসাতে আওয়ামী লীগের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, সাবেক সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনেরা।

বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কাছে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির কাছে নাম জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কীভাবে এই নাম পাঠানো যায় তা সবার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়- সবার কাজ থেকে ১০টি করে নাম নেওয়ার। এ সময় তাদের ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডিয়ামের প্রত্যেক সদস্য কাগজে লিখে ১০টি করে নাম দলীয় সভানেত্রীর কাছে জমা দেন। তবে কেউ কেউ নাম দেননি। প্রস্তাবকৃত নামের মধ্যে থেকে কমন নাম পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। তবে উপস্থিত নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নাম পাঠানোর বিষয়ে আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত।এখন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে হবে : সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই সভায় দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন এখনো বাকি আছে সেগুলো দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ২১ তারিখ পর্যন্ত দেশে করোনার বিধিনিষেধ রয়েছে। এই সময়ের পরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আট বিভাগের জন্য গঠিত আট সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা তাদের কাজ শুরু করবেন। এখন থেকেই আমাদের নির্বাচনী কাজ শুরু করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ কয়েকটি উপনির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে জয়লাভ করা যায় সে প্রমাণ তো আমরা পেয়েছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই আমাদের সহজ জয় হয়েছে। নাসিক নির্বাচনে নৌকার বিজয়ে যে নেতারা কাজ করছেন তাদের ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের যে যে বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের সেখানে যাওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজাতে হবে। এর মধ্য দিয়ে দলের ভিতরে যেসব আগাছা আছে, তা উপড়ে ফেলতে হবে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকলে তা দূর করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা ও অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে সত্যটা তুলে ধরতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী : বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে আলোচনা হয়। সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, র‌্যাবকে তো আমেরিকাই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার কারণেই জঙ্গিবাদ মাথা দিয়ে উঠতে পারেনি। এখন একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যাতে র‌্যাবকে দুর্বল করতে পারলেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটে। উপস্থিত ক্ষমতাসীন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আমেরিকার বিচারবহির্ভূত হত্যার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বৈঠকে এক নেতা বলেন, র‌্যাবের এই বিষয়টি নিয়ে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে কথা বলব সবাইকে বুঝাব। র‌্যাবের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমন হয়েছে। এটা করলে তো আবার এগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সভায় প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত নতুন তিন সদস্য- এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

Education Template

AllEscort