মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এক যুবকের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। সোমবার রাতে দর্শনা প্রেসক্লাবে লিখিত ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেন দর্শনার আজিমপুরের মো: রাকিবুল হাসান রাকিব।তিনি রাকিবুল হাসান রাকিব দর্শনা পৌর এলাকার আজমপুরের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি তার লিখিত ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান, মোবারকপাড়ার আলী হোসেনের ছেলে মান্নান খান ও তার ভাই করিম খান কালুর কারনে গত ৩/৩/২০১৯ থেকে আমি ৫ (পাঁচ) বছর ১৮ দিন জেলখাটি। এরপর জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাই। পরে দীর্ঘ কয়েক মাস যাওয়ার পর, দর্শনা মিতালী আয়রন হাউজ, ফারুক হোসেন শান্ত (ফারুক) পিতা: আয়নাল হোসেন এর দোকানে বসে করিম খান কালু আমাকে মান্নান খানের স্বর্ণের চোরাকারবারির কাজে যুক্ত হতে বলে কিন্তু আমি কাজ করবো না বলে জানিয়ে দেই। তারপরও আমাকে অনেক জোরাজোরি করলে আমি কাজ করবো না বলে সাফ জানিয়ে দিলে, কালু মনোক্ষুণ্ণ হয়ে আমার সাথে আর তেমন কথা বলে না। পরে আমি জানতে পারি ফারুক সহ ৭ জনের একটি টিম তৈরি করে স্বর্ণ চোরাচালানের কাজ করার করেছে তারা। তবে প্রায়ই সন্ধ্যার পরে দেখতাম ফারুকের দোকানের পেছনে ফারুক সহ ৫-৭ জন মিলে আলোচনা করতো। একদিন ফারুকের কাছে জানতে পারি যে, করিম খান কালু হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে গ্রুপ কলে কথা বলে অভিনব পদ্ধতিতে স্বর্ণের চোরাকারবারির কাজ পরিচালনা করে। চুয়াডাঙ্গা থেকে কোন কোন পথে এই স্বর্ণ নিয়ে যেতে হবে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে সবাইকে দিক নির্দেশনা দেয়। এরপর ১৫/১২/২০২৪ তারিখে দামুড়হুদা এলাকার কোন এক গ্রাম থেকে মান্নান খানের ৩-৪ কেজি স্বর্ণ ছিনতাই হয়ে যায়। এতে করিম খান কালু হঠাৎ করে আমাকে বলে এই কাজ তুই করেছিস। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না। কিন্তু আসলেই আমি এর কিছুই জানি না। পরে কালু সহ তার লোকজন নিয়ে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। যেহেতু তারা বেশ ক্ষমতার দাপট নিয়ে দর্শনায় চলে। তাই আমি প্রাণ নাশের ভয়তে দর্শনা ত্যাগ করে ঢাকা চলে আসি, আমার মোটরসাইকেল নিয়ে। বেশ কয়েকদিন পর তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আমার বাড়িতে যেয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসে এবং এ ও বলেছে স্বর্ণ না দিলে রাকিবকে মেরে ফেলবো, আমার পরিবারের কেউ কয়েকদিন ঘর থেকে ভয়তে বের হতে পারেনি করিম খান কালুর ভয়ে। তখন অপরিচিত বা ওই গুন্ডা বাহিনীর লোকজন গেলে আমার বাড়ির কেউ ভয়ে বের হতো না। তখন আমার পরিবারের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক আমার বন্ধু উজ্জ্বল (পিতা: নুরুল আমিন) নামে একজনকে দিয়ে আমার বাড়িতে ডাক দেয় একদল গুন্ডা বাহিনী নিয়ে। বেশ কয়েকদিন আমার বাড়ির আশেপাশে অপরিচিত কিছু লোক ঘোরাঘুরি করতো। হঠাৎ একদিন হাইকোর্টে যাওয়ার পর দেখি করিম খান কালু ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের কাছে অস্ত্র ছিলো। আমাকে বলে সত্যি করে বল স্বর্ণগুলো কি করেছিস, আমি বলি এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। করিম খান কালু আমার কথা বিশ্বাস না করে আমাকে হুমকি দেয় এবং পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমি মোটরসাইকেল পার্কিং এ রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমার এক ছোট ভাই সজীবকে গাড়ির চাবি দিয়ে বলি হাইকোর্ট থেকে আমার গাড়িটা আনার জন্য। সজীব পার্কিং থেকে গাড়িটি আনতে গেলে করিম খান কালু সজিবের কাছ থেকে আমার পালসার গাড়িটি নিয়ে নেয়, যাহার নাম্বার হলো ঢাকা মেট্রো ল-১১-৯৪৩৪। অন্যদিকে, আমার মেজো ভাই রায়হান মিয়া আর্মিতে চাকরি করে। সে তখন বিদেশে মিশনে ছিলো। মিশনে থাকা অবস্থায় রায়হান মিয়া শুনতে পায় করিম খান কালু তার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতেছে। রায়হান মিয়া মিশন থেকে বাড়িতে আসার পর সব কিছু শুনে পরে দর্শনা থানায় মান্নান খান, তার ভাই করিম খান কালু ও কালুর স্ত্রী মনিকা এই তিনজনের নামে একটি জিডি করে। তবে এতে পুলিশের কাছে আমার পরিবার এখনও পর্যন্ত কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। এমতাবস্থায় শুনতে পেলাম করিম খান কালুর স্ত্রী মনিকা/ করিম খান কোর্টে একটি মামলা করেছে, আমার ও মেজো ভাই রায়হান মিয়ার নামে। আমরা নাকি করিম খান কালুর থেকে টাকা নিয়েছি তার ভাগ্নে কে বিদেশে পাঠাবো বা আর্মিতে চাকরি দেবো বলে। এ ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা করতেছে করিম খান কালু ও মান্নান খান। গত ৪ আগস্ট দর্শনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় এই মান্নান খান ও তার ভাই কালুর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বর্তমানে টাকার দাপটে বুক ফুলিয়ে দর্শনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কালু। তাই আমি এখন প্রাণনাশের ভয়তে পালিয়ে আছি। এদিকে, আমার পরিবারের লোকজনও চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাই এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার প্রশাসন এবং সাংবাদিক ভাইদের কাছে এর সঠিক বিচার ও আমাদের নিরাপত্তার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এসময় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মাহমুদ হাসান রনি, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান মামুন, মনিরুজ্জামান সুমন, নজরুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ রয়েল প্রমুখ। মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
Discussion about this post