নিজস্ব প্রতিবেদক :: আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রয়োজনে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মুসল্লিদের মাধ্যমে কমিটি করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও বাজার সিন্ডিকেটদের মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।
দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এতে সভাপতিত্ব করেন। বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাবেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস চলে এসেছে বলে জানান নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান চলে এসেছে, রমজানে সেহরি ও ইফতারের নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ হচ্ছে আওয়ামী বাজার সিন্ডিকেট ও পতিত সরকারের দোসররা। সিন্ডিকেটের কালোহাত থেকে বের করে এই সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এ সময় নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, তাই আজকে চাঁদাবাজির হাত বদল হয়েছে। ঘাটে ঘাটে, পথে পথে চাঁদাবাজরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। সুতরাং বাজারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, তাই কৃষকদের বড় পরিসরে ভর্তুকি দিতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানার দায়িত্ব আপনাদের কাছে দেওয়া আছে, আমরা আশা করব, রমজানের আর এক দিন বাকি আছে, এর মধ্যে বাজার দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবেন।’ এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে রমজানের এক মাসে মুনাফা কম করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে জামায়াত নেতারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রয়োজনে সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারগুলোকে বিশেষ সহযোগিতা করতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়।
এ ছাড়া রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সিনেমা হল, অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা এবং দিনের বেলা সব ধরনের খাবার হোটেল বন্ধ রাখারও আহ্বান জানান তাঁরা। এ ছাড়া রমজান মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীলতা ছড়ানোর বিষয়ে বিটিআরসিকে এসব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর কয়েক হাজার নেতা-কর্মী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে পুরানা পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।
Discussion about this post